Father of Bengali Nation

A blog of Moktel Hossain Mukthi


Leave a comment

ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ : ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ

ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ লেখকঃ ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ
সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের কতিপয় দেশে জঙ্গিবাদ একটি বার্নিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের কারণেই এই নব্য জঙ্গিবাদের উত্থান। তারা ইসলামকে কলঙ্কিত করতে, সত্যিকার ইসলামপন্থি, ইসলাম প্রচারক ও ইসলামী আন্দোলনকারীদের বিতর্কিত করতে জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের কতিপয় দেশে জঙ্গিবাদ একটি বার্নিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের কারণেই এই নব্য জঙ্গিবাদের উত্থান। তারা ইসলামকে কলঙ্কিত করতে, সত্যিকার ইসলামপন্থি, ইসলাম প্রচারক ও ইসলামী আন্দোলনকারীদের বিতর্কিত করতে জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ইসলামী দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নতির পথ রোধ করতে এবং এসব দেশে তাদের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে একে কাজে লাগাচ্ছে। তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিছু বিভ্রান্ত মুসলিমকে বেছে নিয়েছে। তাদেরকে দিয়ে জঙ্গিবাদের বিভিন্ন কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে, এ সকল মুসলিম বুঝে হোক না বুঝে হোক তাদের ফাঁদে পা দিয়েছে। অথচ এদের অনুধাবন করা উচিত ছিল ইসলাম কখনো বোমাবাজি, হত্যা, গুপ্তহত্যা, আত্মঘাতী হামলাসহ কোন ধরনের অরাজকতা সমর্থন করে না। পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের কারণে হোক কিংবা অন্য কোন কারণে হোক যারাই এই পথে পা বাড়িয়েছে তারা জঘন্যতম অপরাধে জড়িত হয়েছে এবং ফিতনা-ফাসাদে লিপ্ত হয়েছে।
বক্ষমান প্রবন্ধে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে ইসলাম তথা পবিত্র আলকুরআন ও আল হাদীসের দৃষ্টিভঙ্গি কী তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রবন্ধটিতে যেসব অনুচ্ছেদ রয়েছে তা নিম্নরূপ :
1. জঙ্গিবাদের সংজ্ঞা
2. জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ
3. জঙ্গিবাদের উত্থান
4. বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান
5. জঙ্গিবাদ বিড়ম্বনা ও জঙ্গিফোবিয়া
6. জঙ্গিবাদ বনাম জিহাদ
7. ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ
8. জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়
9. উপসংহার
জঙ্গিবাদের সংজ্ঞা
জঙ্গি, জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদী শব্দগুলোর মূল হল জঙ্গ। এটি (جنگ ـ ج ن گ) ফার্সী ও উর্দু ভাষার শব্দ। পাকিস্তানের বহুল প্রচারিত ও প্রসিদ্ধ একটি পত্রিকার নাম দৈনিক জঙ্গ। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, তুমুল কলহ, লড়াই, প্রচন্ড ঝগড়া। জঙ্গি অর্থ যোদ্ধা। সেভাবে জঙ্গিবাদ অর্থ জঙ্গিদের মতবাদ, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকান্ড। ইংরেজীতে বলা হয় Militant, Militancy কিংবা Military activities. Oxford Advanced Learner’s Dictionary-তে বলা হয়েছে : Militant adj, Favouring the use of force or strong pressure to achieve one’s aim. অর্থাৎ কারো উদ্দেশ্যে সাধনের জন্য শক্তি প্রয়োগ বা প্রবল চাপ প্রয়োগ। Chamber’s Twentieth Century Dictionary-তে বলা হয়েছে : Militant adj, fighting, engaged in warfare অর্থাৎ সংগ্রামরত বা যুদ্ধরত। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে : using violence, অর্থাৎ সহিংসতা অবলম্বন করা। জঙ্গিবাদ যেহেতু নতুন শব্দ তাই এর আরবী প্রতিশব্দ আরবী অভিধানসমূহে পরিলক্ষিত হয় না। তবে এর কাছাকাছি যে শব্দটির ব্যবহার আমরা দেখতে পাই তা হল (الإرهاب) অর্থাৎ কাউকে ভয় দেখানো, সন্ত্রস্ত করে তোলা, ভীতি প্রদর্শন করা।
পবিত্র আলকুরআনে বলা হয়েছে :
وَأَعِدُّوْا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِن قُوَّةٍ وَمِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهِ عَدْوَّ اللّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِيْنَ مِنْ دُوْنِهِمْ لاَ تَعْلَمُوْنَهُمُ اللّهُ يَعْلَمُهُمْ ـ
‘‘আর তোমরা যতদূর সম্ভব নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য ও পালিত ঘোড়া তাদের সাথে মুকাবিলা করার জন্য প্রস্ত্তত করে রাখ যেন তার সাহায্যে আল্লাহ এবং নিজেদের দুশমনদের আর অন্যান্য এমন সব শত্রুদের ভীত শংকিত করতে পার যাদেরকে তোমরা জান না। কিন্তু আল্লাহ জানেন।’’
পারিভাষিক অর্থে ধর্মীয় কারণে রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে চোরা গোপ্তা হামলা, অতর্কিত আক্রমণ, হত্যা করা, আত্মঘাতী হামলা কিংবা কোন নির্দিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করাকে জঙ্গিবাদ বলে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ
পূর্বের অনুচ্ছেদে জঙ্গিবাদের সংজ্ঞা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের পার্থক্য তুলে ধরা হচ্ছে। সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবাদ ত্রাস শব্দ হতে উদ্ভূত। এর অর্থ হল ভয়, ভীতি, শংকা। সন্ত্রাস হল আতংকগ্রস্ত করা, অতিশয় ত্রাস বা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর সন্ত্রাসবাদ হল, রাজনৈতিক ক্ষমতালাভের জন্য হত্যা, অত্যাচার ইত্যাদি কার্য অনুষ্ঠান নীতি। যার ইংরেজী হল ঞবৎৎড়ৎরংস. এর অর্থ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় বলা হয়েছে :
The systematic use of violance to create a general climate of fear in a population and thereby to bring about a particular political objective.
অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে কোন জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রণালীবদ্ধ সহিংসতার মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা। আরবী বিশ্বকোষে বলা হয়েছে :
‘‘অর্থাৎ ভয়ভীতি সঞ্চারের লক্ষ্যে শক্তি প্রয়োগ করা অথবা বল প্রয়োগের মাধ্যমে হুমকি প্রদর্শন করা।
‘বিশ্ব মুসলিম সংস্থার’ অধীন ‘ইসলামী ফিক্হ্ কাউন্সিল’ ১৪২২ হিজরীতে পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ১৬তম অধিবেশনে সন্ত্রাসের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তা হচ্ছে,
অর্থাৎ ‘কোন ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্র কোন মানুষের ধর্ম, বিবেক বুদ্ধি, ধন-সম্পদ ও সম্মান-মর্যাদার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে যে শত্রুতার চর্চা করে তাকে সন্ত্রাস বলে।’
উপরোক্ত আলোচনায় আমরা যে জিনিসটি উপলব্ধি করেছি তা হল সাধারণত অন্যায়ভাবে যে কোন ভীতি প্রদর্শন, ক্ষতি-সাধন, হুমকি সৃষ্টি ইত্যাদি অপরাধমূলক আচরণকে সন্ত্রাস বলে, এটা ধর্মীয় কারণে হতে পারে অথবা অন্য কোন কারণে হতে পারে। অন্যদিকে শুধু ধর্মীয় কারণে ন্যায় হোক অন্যায় হোক উপরোল্লিখিত কর্মকান্ডকে জঙ্গিবাদ বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন আমরা লক্ষ্য করেছি কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইসলাম ও মুসলিম নামের সাথে টেরোরিষ্ট্র, ফান্ডামেন্টালিষ্ট, মুসলিম এক্সট্রিমিস্ট ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার করে তারা এটাকে ইসলাম ধর্মের সাথে যুক্ত করেছে। তাদের এদেশীয় ও অন্যান্য বিদেশী বন্ধুরা এটাকে জঙ্গিবাদ হিসাবে নামকরণ করেছে। কিছুদিন আগে ভোলা জিলার এক অঞ্চলে ‘‘গ্রীন ক্রিসেন্ট’’ নামের এক ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কিছু অস্ত্র পাওয়াকে কেন্দ্র করে জঙ্গিবাদ নামে তুমুল হৈ চৈ শুরু হয়। একে কেন্দ্র করে ভোলা জিলার অসংখ্য কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়, যদিও কোন একটি মাদ্রাসায় কোন অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অথচ প্রতিনিয়ত সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী মেডিকেল কলেজ, সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, অস্ত্রব্যবহার, বোমাবাজিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংগঠিত হচ্ছে। তারা কেউ এটাকে জঙ্গিবাদ বলে আখ্যায়িত করছে না। এগুলোকে জঙ্গিবাদ বলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করছে না। পক্ষান্তরে এর হাজারো ভাগের এক ভাগও যদি কোন ইসলামী প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় তখনই জঙ্গি, জঙ্গিবাদ, জঙ্গিবাদী বলে প্রচন্ড হৈ চৈ শুরু করা হয়। কয়েকদিন পূর্বে বাংলাদেশের প্রভাবশালী আইন মন্ত্রী বলেছেন, ‘এক শ্রেণীর কওমী মাদ্রাসা জঙ্গিবাদের প্রজনন কেন্দ্র। ধর্মের নামে সন্ত্রাস রোধ করতে মাদ্রাসা শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কওমি মাদ্রসায় ভাল হওয়ার কোন শিক্ষা না দিয়ে সরাসরি বেহেস্তে যাওয়ার শিক্ষা দেয়া হয়। অন্যের জমি দখল যে খারাপ কাজ এ কথাটি এসব মাদ্রাসায় বলা হয়্ না।’
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান থাকলে ধর্মের নামে সন্ত্রাসের সৃষ্টি হতো না। ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনামলে বিভিন্ন সংশোধনী এনে বাহাত্তরের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে নস্যাৎ করা হয়েছে। তারই ফলে দেশে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ধর্মের নামে সন্ত্রাস দূর করতে হলে তিনি ধর্মীয় নেতা সহ সবার গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহবান জানান।’ সম্প্রতি এক গোল টেবিল আলোচনা সভায় সাবেক সেনা প্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম নেতা লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এদেশের মসজিদগুলোর কর্মকান্ডের ওপর নজরদারি করা উচিত। মসজিদে কারা আসছে কারা যাচ্ছে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তা করতে হবে।’
উপরোল্লেখিত আইন মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে আরো কিছু মন্তব্য উল্লেখ করে আমরা বুঝাতে চাচ্ছি যে, কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র-সস্ত্র পাওয়া গেলে অথবা এ সকল প্রতিষ্ঠানের ছেলেরা কোন অস্ত্রবাজি কিংবা হাঙ্গামা বা মারামারি করলে তাকে জঙ্গিবাদ বলে আখ্যায়িত করা হয়, তাদেরকে জঙ্গি বলে দোষারোপ করা হয়, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলেরা এ সকল কর্মকান্ড করলে তাদেরকে বলা হয় সন্ত্রাসী। এর দ্বারা আরো একটি বিষয় আমাদের নিকট পরিষ্কার হলো, প্রতিটি জঙ্গিবাদকে সন্ত্রাসবাদ বলা যাবে কিন্তু প্রতিটি সন্ত্রাসবাদকে জঙ্গিবাদ বলা যাবে না।
জঙ্গিবাদের উত্থান
বর্তমানে মুসলিম অমুসলিম প্রায় সকলে ইসলাম ধর্মের নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করা হচ্ছে তাকে সন্ত্রাসবাদ না বলে জঙ্গিবাদ বলেই আখ্যায়িত করছে। জঙ্গি বা জঙ্গিবাদ নামে কোন খবর প্রকাশিত হলে ধরে নিচ্ছে এটা মুসলিমদের কান্ড। শুধু তাই নয়, ধরে নেয়া হয় যারা সুন্নতি লিবাস পরিধান করে, দাড়ি রাখে, টুপি পরে তারাই সাধারণত এই কাজের সাথে জড়িত।
সে যাই হোক ধর্মের নামে যে সন্ত্রাস এটি কিন্তু নতুন বিষয় নয়। প্রাচীন কাল থেকে তা চলে আসছে। ইয়াহুদী উগ্রবাদী ধার্মিকগণ ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছেন। মানব ইতিহাসে প্রাচীন যুগের প্রসিদ্ধতম সন্ত্রাসী কর্ম ছিল ইয়াহুদী যীলটদের (তবধষড়ঃং) সন্ত্রাস। খৃস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে বসবাসকারী উগ্রবাদী এ সকল ইয়াহুদী নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক স্বাতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আপোসহীন ছিল। যে সকল ইয়াহুদী রোমান রাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করত বা সহ অবস্থানের চিন্তা করত এরা তাদেরকে গুপ্ত হত্যা করত। প্রয়োজনে এরা আত্মহত্যা করত, কিন্তু প্রতিপক্ষের হাতে ধরা দিত না।
মধ্যযুগে খৃস্টানদের মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে সন্ত্রাসের অগণিত ঘটনা দেখা যায়। বিশেষতঃ ধর্মীয় সংস্কার, পাল্টা সংস্কার (জবভড়ৎসধঃরড়হ ধহফ ঈড়ঁহঃবৎ-জবভড়ৎসধঃরড়হ) এর যুগে ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্টদের মধ্যে অগণিত যুদ্ধ ছাড়াও সন্ত্রাসের অনেক ঘটনা দেখা যায়। ইসলাম ধর্মের প্রথম যুগে জঙ্গিবাদের কিছু ঘটনা উল্লেখ করার মত। ৩৫ হিজরী সালে (৬৫৬ খৃ.) ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান উসমান (রা) কতিপয় বিদ্রোহীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। এক পর্যায়ে আলী (রা) খিলাফাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অধিকাংশ সাহাবী আলী (রা)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। কিন্তু তৎকালীন সিরিয়ার গবর্ণর মুয়াবিয়া (রা)সহ কিছু সাহাবী আলী (রা)-এর আনুগত্য অস্বীকার করেন। মুয়াবিয়া (রা) দাবি করেন যে, আগে উসমান (রা)-এর হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আলী (রা) বলেন যে, রাষ্ট্রিয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পূর্বে হত্যাকারীদের বিচার শুরু করলে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেতে পারে। মুয়াবিয়া (রা) এই মত প্রত্যাখান করার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়। এটাই ছিফ্ফিন যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধে উভয় পক্ষের বহু লোক হতাহত হতে থাকে। এক পর্যায়ে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)-এর মাঝে আপোস-মীমাংসার পর একটি সালিসী কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু আলী (রা)-এর অনুসারীদের একদল লোক তাঁর পক্ষ ত্যাগ করে মানুষের বিচার মানতে অস্বীকার করে। ইতিহাসে এ দল ‘খারেজী’ নামে পরিচিত। তারা আওয়াজ তোলে (إنِِ الْحُكْمُ إلاَّ للهِ) আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য আইন নেই। তারা আরো দাবী করে যে, একমাত্র আল্লাহর আইন ও আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছু চলবে না। তারা বলে, আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন অবাধ্যদের সাথে লড়তে হবে। মহান আল্লাহ বলেন :
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأخْرَى فَقَاتِلُوْا الَّتِىْ تَبْغِىْ حَتَّى تَفِئَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوْا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَــ
‘‘মু’মিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে। অতঃপর তাদের একদল অপর দলের উপর অত্যাচার বা সীমালঙ্ঘন করলে তোমরা অত্যাচারী দলের সাথে যুদ্ধ কর যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দেবে এবং সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে পছন্দ করেন। তারা উল্লেখ করে, আল্লাহ এখানে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সীমালঙ্ঘনকারী দলের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। তারা বলে মুয়াবিয়ার (রা) দল সীমালঙ্ঘনকারী, কাজেই এদের আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে মানুষকে সালিস করার ক্ষমতা প্রদান অবৈধ। অতঃপর তারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করল। বসরা ও কুফা হতে এসে সারা দেশে গোলযোগ শুরু করল। প্রথমে তারা মাদায়েন শহর অবরোধের চেষ্টা করে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা নাহরাওয়ান নামক স্থানে সমবেত হয় আলী (রা)-এর সাথে যুদ্ধ করতে। তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০০০। আলী (রা) তাদেরকে বুঝালেন অস্ত্র সংবরণ করতে। কিন্তু তাদের মধ্যে প্রায় ১৮০০ খারেজি কিছুতেই আলীর (রা) বিরুদ্ধে অস্ত্র সংবরণ করতে রাজী হলো না। ৬৫৯ খৃস্টাব্দে তারা আলী (রা) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়। যাকে নাহরাওয়ানের যুদ্ধ বলা হয়। কিন্তু তাদেরকে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নাহরাওয়ান যুদ্ধের পর খারেজীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিজেদের মতবাদ প্রচার করতে থাকে। আলী (রা)-এর বিরুদ্ধে তারা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। এই খারেজীরা পরবর্তিতে আলী (রা), মুয়াবিয়া (রা) ও আমর ইবনুল আস (রা) কে একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানের মসজিদে হত্যার পরিকল্পনা করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমর ইবনুল আস (রা) সেদিন মসজিদে আসেননি, তাই তাঁর জীবন রক্ষা পেল। মুয়াবিয়া (রা) বেঁচে যান, তবে তিনি সামান্য আঘাত পান। অন্যদিকে আলী (রা) মসজিদে নামায পড়তে যাওয়ার সময় আততায়ী আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম খারেজীর তরবারির আঘাতে ১৭ই রমাদান ৪০ হিজরী তারিখে শাহাদাত বরণ করেন। এথেকেই মুসলিদের মধ্যে জঙ্গিবাদ, ইসলামের নামে গুপ্ত হত্যা শুরু হয়। এই খারেজীদের সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হলো, এদের প্রায় সকলেই ছিলো যুবক, অত্যন্ত ধার্মিক, সৎ ও নিষ্ঠাবান, সারারাত তাহাজ্জুদ আদায় করতো। সারাদিন যিকর ও কুরআন পাঠে রত থাকতো। তাদের ক্যাম্পের পাশ দিয়ে গেলে শুধু কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজই শুনা যেত। কুরআন পাঠ করলে বা শুনলে তারা আল্লাহর ভয়ে ও আবেগে কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে যেত। এজন্য তাদেরকে কুররা বা কুরআন পাঠকারী দল বলে অভিহিত করা হতো। পাশাপাশি এরা অত্যন্ত হিংস্র ও সন্ত্রাসী ছিল। অনেক নিরপরাধ মুসলিম তাদের হাতে প্রাণ হারায়। এরা মনে করত যে, ইসলামী বিধিবিধানের লঙ্ঘন হলেই মুসলিম ব্যক্তি কাফিরে পরিণত হয়। এমন ব্যক্তি দেরকে গুপ্ত হত্যা করা বৈধ। শুধু তাই নয় যারা আলী (রা) কে কাফির মনে করতো না এরূপ সাধারণ অযোদ্ধা, পুরুষ, নারী ও শিশুদেরও এরা হত্যা করত। ইসলামের ইতিহাসে আরেকটি সংগঠনের অস্তিত্ব দেখা যায় যারা খারেজী ফিরকার মত ভিন্নমতালম্বীদের গুপ্ত হত্যা করত, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করত, নিজেদেরকে সত্যিকার মুসলিম মনে করত, এদেরকে ‘বাতেনী হাশাশীন’ নামে অভিহিত করা হত।
এভাবে যুগে যুগে বিভিন্ন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অসংখ্য ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। যার মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য হল ১৭৪৯ সাল থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত ফরাসী বিপ্লবের সময় ক্ষমতা দখলকারী কিছু বিপ্লবীর তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত হিংসাত্মক আচরণ। ১৮৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের সময় এবং উনিশ শতকে কুক্ল্যাকস ক্ল্যান নামক শ্বেতাঙ্গ গ্রুপ কৃষ্ণাঙ্গ ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
তবে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করে যাইয়নবাদী ইয়াহুদীরা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ফিলিস্তিন থেকে ফিলিস্তিনীদের তাড়িয়ে দেয়া। তাদের মুকাবিলায় ফিলিস্তিনিরাও নিজেদের ভূখন্ড রক্ষার লড়াই শুরু করে।
কিন্তু বিশ্বে বর্তমান জঙ্গিবাদের উত্থান হয় ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে দেয়ার পর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টুইন টাওয়ার ধ্বংসের জন্য সৌদী নাগরিক ওসামা বিন লাদেন ও তাঁর সংগঠন আল কায়েদাকে দায়ী করে। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত এর কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। অথচ একটি মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল মুসলিম রাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালায়। হাজার হাজার টন বোমা ফেলে আফগানিস্তানের হাজার হাজার মুসলিম নাগরিককে হত্যা করে দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে। অনুরূপভাবে ইরাকের কাছে গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হামলা চালায় ইরাকের উপর। সেখানেও তারা অজস্র টন বোমা নিক্ষেপ করে হাজার হাজার মুসলিমকে হত্যা করেছে। আর তারা এটাকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আমরা এ বিষয়ে তাদের সাথে একমত হতে পারছি না। কারণ নিজ জন্ম ভূমিকে বিদেশী দখল মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করা, অস্ত্র দিয়ে লড়াই করা কিছুতেই জঙ্গিবাদ হতে পারে না। এটা জাতীয় কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। নিজ জন্মভূমি বা স্বদেশ রক্ষার সংগ্রাম কোনক্রমেই জঙ্গিবাদ কিংবা সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে না। এখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান
আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বে একটি উদার মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। ধর্মপ্রীতি এদেশের ঐতিহ্য। আমাদের সমাজ কাঠামোর ভেতর কোন সাম্প্রদায়িকতা নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য এদেশে কোন ব্যবস্থা নিতে হয় না। কিন্তু একটি কুচক্রিমহল বাংলাদেশের এ ঐতিহ্যকে মোটেই সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ধারা বিনষ্ট করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাস কবলিত মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসাবে চি‎‎হ্নত করার মাধ্যমে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের অজুহাত সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এজন্য তারা ইসলামের নামধারী কয়েকটি সংগঠন বিশেষ করে ‘‘জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’ বা জেএমবিকে ব্যবহার করে গত ১৭ আগস্ট ২০০৫ গাজীপুর ও চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। শুধু তাই নয় এ সকল জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ইসলামের নাম ব্যবহার করে তারা ইসলামের ভাবমর্যাদা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালায়। মূলতঃ তখন থেকেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। যদিও এসকল বোমা হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ ইসলামের নাম ব্যবহার করে কিছু বিপথগামী মুসলিম ঘটিয়েছে, কিন্তু এসবের পেছনে কয়েকটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে। প্রখ্যাত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবি ‘‘ফরহাদ মজহার’’ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার এক কলামে উল্লেখ করেন যে, ‘‘ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং আরেকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেশ কিছু তথাকথিত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে। যাইয়নবাদী হোক, ব্রাহ্মণ্যবাদী হোক, মুসলিমদের শত্রুরা ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে। কিন্তু আমরা মুসলিমরা কেন তাদের হাতের ক্রীড়নক হব? তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হব?
জঙ্গিবাদ বিড়ম্বনা ও জঙ্গিফোবিয়া
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ একটি যন্ত্রনাদায়ক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসের ন্যায় জঙ্গিবাদের সর্বসম্মত সংজ্ঞা এখনো নিরূপিত হয়নি। যত তাড়াতাড়ি এই শব্দদ্বয়ের সংজ্ঞা নিরূপণ করা যাবে বিশ্বের জন্য ততই মঙ্গল হবে। কোনটি জঙ্গিবাদ আর কোন্টি জঙ্গিবাদ নয় এনিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা যায় কেউ অস্ত্রধারণ করে নিজেকে রক্ষার জন্য, স্বাধিকার আদায়ের জন্য, কারো কাছে এটি জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ, আবার কারো কাছে এটি দাবী আদায়ের পন্থা কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রাম। বর্তমানে ইসলাম বিরোধী শক্তি বিশেষ করে পশ্চিমারা ইসলামকে জঙ্গিবাদের সমার্থক হিসেবে প্রচার করে চলেছে। অনুরূপভাবে দেশীয় মুসলিম বিদ্বেষী গোষ্ঠী পশ্চিমাদের ন্যায় জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা নিজেদের ব্যর্থতা আর বিদেশী প্রভুদের স্বার্থ হাসিলের গভীর চক্রান্ত আড়াল করতে জাতিকে জঙ্গিবাদের জুজুর ভয় দেখাচ্ছে। তারা দেশের ভেতরে গৃহযুদ্ধের পাঁয়তারা করছে। জঙ্গি জঙ্গি করে মানুষের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। বিদেশীরা এ জঙ্গিবাদের জিগির তুলে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে চায়। তারা এদেশকে আফগানিস্তান বা ইরাক কিংবা পাকিস্তানের মত অস্থির দেশে পরিণত করতে চায়। সেই উদ্দেশ্য সাধনে আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো পশ্চিমা মিডিয়াগুলোর অন্ধানুকরণে ইসলাম ও জঙ্গিবাদকে একাকার করে ফেলেছে। মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গি উৎপাদনের কেন্দ্র বলা হচ্ছে। অথচ সন্ত্রাস বোমাবাজি ও খুনখারাবির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে থাকলেও তাকে জঙ্গিবাদ বলা হচ্ছে না। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকারীরা কি মাদ্রাসার ছাত্র? এরা কি মাদ্রাসায় পড়ে? হত্যা, খুন, রাহাজানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি অভিযোগে কতজন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক বা মসজিদের ইমাম-মুয়াযি্যন গ্রেফতার হয়েছেন? যদি মাদ্রাসা, ইয়াতিমখানায় অস্ত্র পাওয়া গেলে জঙ্গিপনা হয় তাহলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের মত সাধারণ ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্র-সস্ত্র পাওয়া গেলে তা জঙ্গিপনা হবে না কেন? এসব বিষয়ে জাতি আজ বিভ্রান্তিতে রয়েছে। এগুলোর সমাধান হওয়া উচিত।
জঙ্গিবাদ বনাম জিহাদ
মুসলিম জঙ্গিবাদী বিপথগামীরা সাধারণত তাদের কর্মকান্ডের জন্য ইসলামের পবিত্র পরিভাষা জিহাদ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। তারা জিহাদের নামেই তাদের অধিকাংশ কর্মকান্ড পরিচালনা করছে, কোন কোন ক্ষেত্রে কিতালের প্রসঙ্গ তুলে ধরছে। অথচ এই জিহাদ ও কিতাল বৈধ কোন কর্তৃপক্ষ ছাড়া অর্থাৎ রাষ্ট্র বা সরকার ছাড়া কেউ ঘোষণা দিতে পারে না। এ বিষয় আলোচনা করতে হলে প্রথমে আমাদেরকে জিহাদ ও কিতালের তাৎপর্য বুঝতে হবে।
জিহাদের মূল শব্দ হলো (جُهْدٌ) জুহদুন। যার শাব্দিক অর্থ চেষ্টা করা, প্রচেষ্টা চালানো। পারিভাষিক অর্থ হলো চূড়ান্ত বা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো। আর ইসলামিক পরিভাষায় ও ইসলামী ফিক্হে জিহাদ বলতে মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় যুদ্ধকেই বুঝানো হয়। জিহাদ একটি সাধারণ ও ব্যাপকার্থক শব্দ। আলকুরআন ও আল হাদীসে জিহাদকে বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ তুলে ধরা হলো। যেমন আলকুরআনে বলা হয়েছে-
(وَجَاهِدُوْا فِى اللَّهِ حَقَّ جِهَادِه )
‘‘তোমরা আল্লাহর জন্যে জিহাদ কর যেভাবে জিহাদ করা উচিত।’’
আবদুল্লাহ ইবন আববাস (রা) বলেন : এখানে ‘‘হাক্কা জিহাদিহি’’ অর্থ হল- জিহাদে পূর্ণ শক্তি ব্যয় কর এবং তিরস্কারীর তিরস্কারে কর্ণপাত কর না। দাহ্কাক ও মুকাতিল (রহ) বলেন : আল্লাহর জন্য কাজ কর যেমন করা উচিত। এবং আল্লাহর ইবাদাত কর যেমন করা উচিত। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন : এখানে জিহাদ নিজ প্রবৃত্তি ও অন্যায় কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে কাজ করাকে বুঝানো হয়েছে।
আরেক জায়গায় কাফির ও মুনাফিকদের সাথে যুদ্ধ করাকে জিহাদ বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন :
ياَ اَيُّهَا النَّبِىُُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِيْنَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْــ
‘হে নবী, কাফির ও মুনাফিকদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন।’
কষ্ট স্বীকার ও ধৈর্য ধারণের অর্থে জিহাদ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন :
وَمَنْ جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِىُّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ ــ
‘যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো নিজের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে। আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে অমুখাপেক্ষী।’
وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَــ
‘‘আর যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎ কর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।’’
فَلاَ تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَادًا كَبِيْرًاــ
‘‘অতএব আপনি কাফিরদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের সাথে এর সাহায্যে কঠোর সংগ্রাম করুন।
উপরোক্ত তিনটি আয়াতে মুসলিমদেরকে যুল্ম নির্যাতনের সময় ধৈর্যধারণ করতে বলা হয়েছে। অনুরূপ ভাবে অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য ন্যায়ের কথা বলাকে সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ বলা হয়েছে-
‘‘একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাস করলেন : সর্বোত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি বললেন : অত্যাচারী শাসকের নিকট সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা।’’
হজকে সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ বলা হয়েছে-
‘পুণ্যময় হজ্জ হলো সর্বোত্তম জিহাদ।’
জিহাদের আরেকটি সমার্থক শব্দ হচ্ছে قتال (কিতাল)। কিতাল অর্থ পরস্পর যুদ্ধ করা, লড়াই করা। আলকুরআন ও আল হাদীসে বিভিন্ন জায়গায় কিতালের কথা উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন :
وَقَاتِلُوْا فِىْ سَبِيْلِ اللّهِ الَّذِيْنَ يُقَاتِلُوْنَكُمْ وَلاَ تَعْتَدُوْا إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَــ
‘‘আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’’ অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেছেন :
وَقَاتِلُوْا الْمُشْرِكِيْنَ كَآفَّةً كَمَا يُقَاتِلُوْنَكُمْ كَآفَّةًــ
‘‘আর তোমরা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে।’’
উপরোক্ত আলোচনায় জিহাদ শব্দটি যে ব্যাপক অর্থবোধক তা আমাদের সামনে স্পষ্ট। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অর্থে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
বস্ত্ততঃ জিহাদের কাজ শুরু হয় মানুষের ব্যক্তি জীবনের আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টার মাধ্যমে। তারপর নিজের আত্মীয় স্বজন ও অন্যান্য মানুষের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানোর মাধ্যমে। এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক অব্যাহত প্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়া। সর্বশেষ প্রয়োজনে যুদ্ধের মাধ্যমে জিহাদের অর্থ প্রকাশ পেয়ে থাকে। আর সেটি হবে সামনা সামনি যুদ্ধ যা কিতাল এবং তা হবে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের আদেশে এবং তাঁর নেতৃত্বে। সেজন্য ইসলাম জিহাদ ও কিতালের ক্ষেত্রে অনেক শর্ত আরোপ করেছে। যার অন্যতম শর্ত হলো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব। রাষ্ট্রের প্রধান বা নেতাই জিহাদের বা কিতালের ঘোষণা দিতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
‘‘রাষ্ট্রপ্রধান হলো ঢাল, তাঁর পেছনে থেকেই যুদ্ধ করতে হবে।’
অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে :
‘‘রাষ্ট্র প্রধান ধার্মিক হোক অথবা অধার্মিক হোক উভয় ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্যে জিহাদ করা তোমাদের উপর কর্তব্য।’’ যদি কোন দল বা গোষ্ঠীকে অথবা কোন দল বা আমীরকে জিহাদ বা কিতালের ঘোষণা দেয়ার অধিকার দেয়া হয় তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, মারামারি ও গোলযোগ শুরু হয়ে যাবে। এভাবে গৃহযুদ্ধ বেধে যাবে যার পরিণতিতে দেশ ও জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। আলী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)-এর মাঝে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তা ছিল রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ। বৈধ চতুর্থ খলিফা আলী (রা)-এর আনুগত্য না করার কারণেই আলী (রা) মুয়াবিয়া (রা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তদরূপ উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা)-এর যুদ্ধও রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ ছিল। আত্মঘাতী হত্যার মাধ্যমে মানুষদেরকে হত্যা করা, নিরীহ জনগণকে হত্যা করা, কিংবা গুপ্ত হত্যা করা, পেছন থেকে হত্যা করা, বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা করা, জান-মাল ধ্বংস করা কিছুতেই জিহাদ হতে পারে না। বিগত দেড় হাজার বৎসর ধরে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ‘জিহাদ’ নামে এরূপ অপকর্ম কখনোই দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত যুদ্ধের ময়দান ছাড়া কোথাও কোন নিষ্ঠাবান মুসলিম ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে কাউকে গুপ্ত হত্যা করেছে, আত্মহত্যার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করেছে, কারো বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করেছে, কোন জনপদে বোমাবাজি ও অরাজকতা করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, ইত্যাদির কোন নজির দেখা যায় না। সুতরাং জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডকে জিহাদের নামে চালিয়ে দেয়া মোটেও বৈধ নয়। আলকুরআনে জিহাদ ও তৎসম্পর্কিত শব্দ ৩৬বার এসেছে এবং প্রতিবারই ন্যায়নীতির সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে জঙ্গিবাদ হলো অন্যায়ভাবে মানুষদেরকে আক্রমণ করা, তাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং নিরীহ লোকজনকে হত্যা করা ইত্যাদি।
ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ
বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে জঙ্গিবাদের যে উত্থান ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়, তার সাথে শুধু গুটি কতেক মুসলিম জড়িত। বিশ্বের সকল বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদগণ এবং মূলধারার সকল ইসলামী সংগঠন ও সংস্থা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এধরনের ব্যক্তিরা বিভ্রান্ত, বিপথগামী। এরা ইসলামের শত্রুদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। ইসলামের শত্রুরা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ওরা এদেরকে ইসলামের ভাব-মর্যাদা ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছে। এসকল ব্যক্তি কোনভাবেই ইসলামের জন্য কল্যাণকর হতে পারেনা। তারা ইসলামকে বিশ্ববাসীর সামনে বিকৃত ও কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়।
জঙ্গিবাদীরা সাধারণত সে সকল জঘন্য কর্মকান্ড ঘটিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে হাসিল করতে চায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- (ক) বোমাবাজি করে অরাজকতা সৃষ্টি করা। (খ) মানুষ হত্যা ও (গ) আত্মঘাতী হামলা।
বোমাবাজি ও অরাজকতা সৃষ্টি করা :
জঙ্গিবাদীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভিন্ন ধরনের জঘন্য কর্মকান্ড সংগঠিত করে থাকে, তার মধ্যে একটি হল বোমাবাজি করে অরাজকতা সৃষ্টি করা, সমাজে বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ করা, দাংগা-হাংগামা করা। পবিত্র কুরআনে এগুলোকে ‘ফিতনা’ ও ‘ফাসাদ’ শব্দদয় দ্বারা অভিহিত করা হয়েছে। ফিতনা-ফাসাদ মহান আল্লাহর কাছে অতীব ঘৃণিত একটি মহাপাপ, কবীরা গুনাহ। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এ সমস্ত কাজকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলোর জন্যে ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন :
‘পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটাবে না।’
وَلاَ تَعْثَوْْا فِى الأَرْضِ مُفْسِدِيْنَــ
‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ তথা দাংগা হাংগামা করে বেড়িও না।’
‘তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।’
وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلاَ تَبْغِ الْفَسَادَ فِىْ الأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْمُفْسِدِيْنَ
‘তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অুনগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ, বিপর্যয় সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।’
‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারী, দুষ্কর্মীদের কর্ম সার্থক করেন না।’
মহান আল্লাহ ফিত্না সম্পর্কে ইরশাদ করেন :
وَصَدٌّ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَِتْلِــ
‘আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিষ্কার করা, আল্লাহর নিকট বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফিতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহাপাপ।
وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ ـ
‘আর ফিতনা-ফাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।’
উপরোক্ত আয়াতসমূহে ফিতনা-ফাসাদ তথা অরাজকতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা, বোমাবাজি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ইত্যাদি সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ফিতনা-ফাসাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা কিংবা জঙ্গিবাদকে হত্যার চেয়েও কঠিন ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের অপরাধ হত্যার সমতুল্য। এ প্রসঙ্গে তাফসীর তাফহীমুল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘‘নর হত্যা নিঃসন্দেহে একটি জঘন্য কাজ কিন্তু কোনো মানবগোষ্ঠী বা দল যখন জোরপূর্বক নিজের স্বৈরতান্ত্রিক ও যুল্মতান্ত্রিক চিন্তাধারা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়, সত্য গ্রহণ থেকে লোকদেরকে জোরপূর্বক বিরত রাখে এবং যুক্তির পরিবর্তে পাশবিক শক্তি প্রয়োগে জীবন গঠন ও সংশোধনের বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত প্রচেষ্টার মুকাবিলা করতে শুরু করে তখন সে নরহত্যার চাইতেও জঘন্যতম অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়।
এছাড়া পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা আল্লাহ ঘোষণা করেন :
إِنَّمَا جَزَاء الَّذِيْنَ يُحَارِبُوْنَ اللّهَ وَرَسُوْلَهُ وَيَسْعَوْنَ فِى الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوْا أَوْ يُصَلَّبُوْا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيْهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلافٍ أَوْ يُنْفَوْا فِى الأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْىٌ فِى الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِى الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌــ
‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে হাঙ্গামা করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা। আর আখিরাতে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।’
মানব হত্যা
জঙ্গিবাদীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আরেকটি জঘন্য অপরাধ করে থাকে তা হলো মানব হত্যা। এটা বিভিন্নভাবে করে থাকে, গুপ্তভাবে, পেছন থেকে, বোমা মেরে কিংবা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দিয়ে। অথচ মানব জীবন মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন :
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِىْ آدَمَ وَحَمَلْنهُمْ فِىْ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنهُمْ مِّنَ الطَّيِّبتِ وَفَضَّلْنهُمْ عَلَى كَثِيْرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً
নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি, তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্ত্তর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি
সেজন্য মহান আল্লাহ একজন মানবের জীবন সংহারকে সমগ্র মানবগোষ্ঠীর হত্যার সমতুল্য সাব্যস্ত করেছেন। মানব জীবনের নিরাপত্তার প্রতি ইসলাম যতটা গুরুত্ব দিয়েছে অন্য কোন ধর্মে বা মতাদর্শে এর নযির নেই। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন :
مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِىْ إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِى الأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيْعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيْعًاــ
‘এ কারণে আমি বনী ইসরাইলকে এরূপ লিখে দিয়ে ছিলাম যে, যে ব্যক্তি বিনা অপরাধে কিংবা ভূ-পৃষ্ঠে কোন গোলযোগ সৃষ্টি করা ছাড়াই কাউকে হত্যা করলো সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করলো আর যে ব্যক্তি কোন একজন মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই রক্ষা করলো।’
যে ব্যক্তি সংগত কারণ ছাড়া একজন মানুষকে হত্যা করে সে কেবল একজন মানুষকেই হত্যা করে না, বরং সে সমগ্র মানবতাকে হত্যা করে, অর্থাৎ সে একজন মানুষকে হত্যা করে এ কথাই প্রমাণ করলো যে তার মন-মানসিকতায়, চিন্তা-চেতনায় অন্য মানুষের প্রতি সামান্যতম সম্মান, মর্যাদাবোধ ও সহানুভূতির চিহ্ন নেই। সেজন্য মহান আল্লাহ সংগত কারণ ছাড়া মানব হত্যা যেভাবেই হোক না কেন নিষিদ্ধ করেছেন। নিম্নে এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন ও হাদীস হতে কয়েকটি উদ্ধৃতি দেয়া হলো। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন :
‘আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না।’
ন্যায়সংগত কারণ তিনটি যা ইমাম আল বুখারী (র) ও ইমাম মুসলিম (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের (রা) রিওয়ায়াতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
‘যে মুসলিম আল্লাহ এক এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেয়, তার রক্ত হালাল নয়, কিন্তু তিনটি কারণে তা হালাল হয়ে যায়।
(১) বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সে যদি যিনা করে, তবে প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করাই তার শরীয়তসম্মত শাস্তি।
(২) সে যদি অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করে, তবে তার শাস্তি এই যে, কিসাস হিসেবে তাকে হত্যা করা হবে।
(৩) যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, তার শাস্তিও হত্যা।’ (আলোচ্য হাদীসে এবং তৎসম্পর্কিত কুরআনের আয়াতে কিসাস নেয়ার অধিকার নিহত ব্যক্তির অভিভাবককে দেয়া হয়েছে। যদি তার রক্ত সম্পর্কিত কোন অভিভাবক না থাকে তাহলে ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার প্রধান এ অধিকার পাবে। কারণ সরকারও একদিক দিয়ে সকল মুসলিমের অভিভাবক।)
কেউ কেউ ন্যায় সংগত হত্যার কারণ উপরোক্ত তিনটির সাথে আরো তিনটি বর্ণনা করেন : তাহলো-
(৪) জিহাদের ময়দানে সত্যদ্বীনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের হত্যা করা।
(৫) ডাকাতি অথবা রাজপথে রাহাজানি ইত্যাদি অপরাধের শাস্তি স্বরূপ হত্যা করা।
(৬) কোন ব্যক্তি যদি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে জঙ্গিপন্থা অবলম্বন, সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি, জনজীবনে আতঙ্ক-অশান্তি সৃষ্টি করে এবং ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার পতন ঘটানোর চেষ্টা করে তাকে হত্যা করা।
তবে উপরোক্ত ছয়টি কারণ ছাড়া অন্য কোন কারণে মানুষকে হত্যা করা যায় না। কিন্তু এ সকল অবস্থায় মৃত্যু দন্ড কার্যকর করার অধিকার শুধু রাষ্ট্রীয় সরকার বা কর্তৃপক্ষের জন্য নির্ধারিত, অর্থাৎ আদালত রায় দেবে আর সরকার কর্তৃক নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারীরা তা বাস্তবায়ন করবে। জনগণকে কোন অবস্থাতেই আইন নিজ হাতে তুলে নেয়ার অধিকার দেয়া হয়নি। মহান আল্লাহ ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া মানব হত্যা নিষিদ্ধ সম্পর্কে আরো ঘোষণা করেন :
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَه عَذَابًا عَظِيْمًاــ
‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানেই সে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তার উপর অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্ত্তত করে রাখবেন।’
وَالَّذِيْنَ لاَ يَدْعُوْنَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا اخَرَ وَلاَ يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِىْ حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُوْنَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًاـــيُضعَفْ لَه الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيْهِ مُهَانًا
‘এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের ইবাদাত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সংগত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করবে তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামাতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে।’
নিম্নে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো, যা সুস্পষ্টভাবে ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া মানব হত্যাকে সম্পূর্ণ নিষেধ করে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন :
ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘হে লোক সকল! তোমাদের জান-মাল ও ইজ্জত-আবরুর উপর তোমাদের হস্তক্ষেপ হারাম করা হলো, তোমাদের আজকের এই দিন, এই (যিলহজ্জ) মাস এবং এই (মক্কা) নগরী যেমন পবিত্র ও সম্মানিত, অনুরূপভাবে উপরোক্ত জিনিসগুলোও সম্মানিত ও পবিত্র। সাবধান! আমার পর তোমরা পরস্পরের হন্তা হয়ে কাফিরদের দলভুক্ত হয়ে যেও না’
ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘তোমরা সাতটি সর্বনাশা গুনাহ থেকে বিরত থাক। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, যাদু করা, শরীয়াতের বিধিবর্হিভূত কোন অবৈধ হত্যাকান্ড ঘটানো, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, সুদ খাওয়া, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালানো এবং সরলমতি সতী মু’মিন মহিলাদের ওপর ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া।’
ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘যার হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি : আল্লাহর নিকট (বিনা অপরাধে) কোন মু’মিনের হত্যাকান্ড সমগ্র পৃথিবীর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চেয়েও মারাত্মক ঘটনা।’
ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘কোন মুসলিম ব্যক্তির নিহত হওয়ার তুলনায় সমগ্র পৃথিবীর পতন আল্লাহর দৃষ্টিতে অতি তুচ্ছ ব্যাপার।
ـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘মুমিন যে পর্যন্ত অবৈধভাবে কাউকে হত্যা না করে, সে পর্যন্ত সে ইসলামের উদারতার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।’
আল কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসমূহ ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া মানুষ হত্যাকে কোনভাবেই সমর্থন করে না, বরং সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করে, অধিকন্তু ন্যায় সংগত হত্যার বিধান রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে, কোন দল বা গোষ্ঠীকে এই অধিকার দেয়া হয়নি। যারা এ ধরনের কাজ করবে তাদের পরিণাম হবে জাহান্নাম।
আত্মঘাতী হামলা বা সুইসাইড স্কোয়াড
জঙ্গিবাদীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অপর যে জঘন্য কর্মটি করে থাকে সেটা হলো আত্মঘাতী হামলা। আর এটি করে সাধারণতঃ সুই সাইড স্কোয়াড বা আত্মঘাতী দল গঠনের মাধ্যমে। কিছু সহজ-সরল সাদাসিধে মুসলিমকে জান্নাত পাবার লোভ, কিংবা অন্যান্য পুরস্কারের কথা বলে এ কাজে নিয়োজিত করে থাকে। অথচ মহান আল্লাহ যে ভাবে অপরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, সেভাবে নিজের জীবনকেও ধ্বংস করতে নিষেধ করেছেন। আত্মহত্যা করতে বারণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত ও হাদীস উদ্ধৃত করা হলো। মহান আল্লাহ ইরশাদ
করেন :
وَلاَ تُلْقُوْا بِأَيْدِيْكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِــ
‘তোমরা নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না।’
وَلاَ تَقْتُلُوْا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيْمًاــ
‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর দয়ালু।’
ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘যে ব্যক্তি নিজেকে শ্বাসরুদ্ধ করবে (আত্মহত্যা করবে) সে জাহান্নামে নিজেকে শ্বাসরুদ্ধ করবে। আর যে নিজেকে আঘাত করবে (আত্মহত্যা করবে), সে জাহান্নামেও নিজেকে আঘাত করবে।’
ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে বসেও সে অনবরত উচ্চ স্থান থেকে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পানে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের মধ্যে বসেও সে অনন্তকাল ধরে বিষ পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোন লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে বসে অনন্তকাল ধরে সেই অস্ত্র দিয়েই নিজেকে কোপাতে থাকবে।
ـ ‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি আহত হয়ে কষ্ট পাচ্ছিল। তাই সে এক খানা ছুরি দ্বারা নিজের দেহে আঘাত করলো। ফলে রক্তপাত হয়ে সে মারা গেল, তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমার বান্দা আমাকে ডিংগিয়ে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।
مَنْ قَتَلَ ـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ
‘যে ব্যক্তি কোন জিনিস দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামাতের দিনও তাকে সে জিনিস দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে। কোন মু’মিনকে অভিশাপ দেয়া তাকে হত্যা করার শামিল, আর কোন মু’মিনকে কাফির বলা তাকে হত্যা করার শামিল।’
পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত কয়েকটি আয়াত ও কয়েকটি হাদীসের আলোকে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কোন অবস্থায় আত্মহত্যা করা যাবে না। আত্মঘাতী হামলা করে মানুষ হত্যা তো দূরের কথা, উপরোক্ত আলোচনায় আরো স্পষ্ট হয়, যারা এই অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে তাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত।
জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়
আমরা মনে করি জঙ্গিবাদ কোন বড় ধরনের সমস্যা নয়। গুটি কতেক ব্যক্তি এর সাথে জড়িত। এরা অসংগঠিত ও অপরিকল্পিত। যদি সদিচ্ছার সাথে কিছু সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া যায় তাহলে এ সমস্যাটি সহজে দূর করা যাবে বলে বিশ্বাস করি, নিম্নে এ লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাব পেশ করা হলো।
১. যে সকল মুসলিম দেশে জঙ্গিবাদ সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের শাসকদের বুঝতে হবে এটা ইসলাম বিদ্বেষী-পশ্চিমা শক্তি, ইয়াহুদী গোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র, মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও মুসলিমদের শক্তিকে দুর্বল করার জন্য তারা এ সমস্যা সৃষ্টি করেছে। অতএব, তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।
২. পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি, এই জঙ্গিবাদের সাথে গুটি কয়েক বিভ্রান্ত মুসলিম জড়িত। এদেরকে হিদায়াতের জন্য আলিম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে যে, জঙ্গিবাদ কোনক্রমেই ইসলামের পথ নয়। এটা সম্পূর্ণভাবে জাহান্নামের পথ।
৩. যেহেতু জঙ্গিবাদের সাথে সত্যিকার ইসলাম পন্থিরা জড়িত নয়, তাই জঙ্গিবাদ দমনের জন্য মূলধারার ইসলামী শক্তি, ইসলামী দলগুলোর সহযোগিতা নিতে হবে, এবং তাদের সাথে পরামর্শ করে কর্মপন্থা ঠিক করতে হবে।
৪. দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদের ইমাম খতিবদের সহযোগিতা নিতে হবে, তারা যেন জুমার খুতবায় ও অন্যান্য সময়ে মসজিদগুলোতে জঙ্গিবাদের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মুসলিমদেরকে অবহিত করতে পারেন।
৫. মূলধারার ইসলামী শক্তি ও দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করার উদ্দেশ্যে ইসলামী আদর্শ, মাদ্রাসা-মক্তবকে ঢালাওভাবে জঙ্গি আখড়া, জঙ্গি প্রজনন কেন্দ্র, তালেবান দুর্গ, মৌলবাদী অভয়ারণ্য বলার মত উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।
৬. জনগণকে সাথে নিয়ে এই জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে। তাই জনগনের বিশ্বাস, ধর্ম-বিশ্বাস, তাদের লালিত মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে সম্মান করতে হবে। এ সবের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের শাসকদেরকে ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনক্রমে ইয়াহুদীবাদ, খৃস্টবাদ ও ব্রাহ্মণ্যবাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না। সে লক্ষ্যে এদের পরিবর্তে মুসলিম বিশ্ব ও সত্যিকার ইসলামপন্থিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
8. ব্যক্তিগতভাবে আলিম-ওলামা, পীর-মাশায়েখরা জঙ্গীবাদ দমনে এগিয়ে আসতে পারেন। তাঁরা আলাপ-আলোচনা, ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে এর ক্ষতিকর ও ভয়াবহতা সম্পর্কে সর্ব সাধারণকে সতর্ক করতে পারেন।
9. তদরূপ বিভিন্ন ইসলামী ও অ-ইসলামী দল সংস্থা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে এর ভয়াবহতা ও অনিষ্টকর দিকগুলো সম্পর্কে জন-সাধারণকে অভিহিত করতে পারেন।
উপসংহার
আমরা সকলে জানি, ইসলাম অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা ও মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন করা। মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন মানবকুলের শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, প্রগতি ও উন্নতির জন্য মনোনিত করেছেন ইসলাম ধর্মকে, অতএব একজন মুসলিম অপর মুসলিমের অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে না। তাইতো একজন আরেক জনের সাথে দেখা হতেই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সম্বোধন করে। যার অর্থ ‘‘আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’’ তাহলে কিভাবে সে অন্যকে অশান্তিতে ফেলে দেবে? অন্যের নিরাপত্তায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে? সুতরাং ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক নেই। বিশ্বের এমনকি বাংলাদেশেরও কোন প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত ইসলামী দল বা প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নেই। শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় হাজার বছর অপেক্ষা করতে হলেও তা করা উচিত। জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দিয়ে একে তো দ্রুত ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যাবে না, আর করা গেলেও তার কোন শুভ ফল আশা করা যায় না। এ কথা সর্বমহলে স্বীকৃত যে, ইসলাম তার অন্তর্নিহিত স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, সম্প্রীতি, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার মাধ্যমে পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল, তরবারি, জঙ্গিবাদ কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে নয়। তবে নতুন গজিয়ে ওঠা কিছু গ্রুপ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে। তারা জিহাদের নামে ইসলামের নামে বিভিন্ন অরাজকতামূলক কর্মকান্ড সংগঠিত করছে। অথচ এগুলোর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই, যা আমরা ইতিপূর্বে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে বুঝতে পেরেছি। ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ হারাম। বোমাবাজি, মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি ও আত্মঘাতী তৎপরতা ইত্যাদি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এগুলো করছে তারা বিভ্রান্ত, ইসলাম বিরোধীদের ক্রীড়নক। এদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করা প্রয়োজন।
Advertisements


1 Comment

মুক্তির কথা

“গ্যাস নেই পানি নেই বিদ্যুৎ নেই, আওয়ামী লীগ ক্কমতায় গেলে দেশকে প্রভূ ভারতের পায়ে সপে দিবে” ইত্যাদি ইত্যাদি বলে বেজি ঘসেটি বেগম গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে করে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। বিগত ৪ বছর আহা বেচারার উপর অনেক ধকল গিয়েছে। একদিকে স্বামীকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দেশবাসীকে প্রতারণা করার অপবাদ আর গ্লানি, অন্যদিকে দুটি ছেলে আর্মির ঠ্যাংগানি খেয়ে পঙ্গু প্রায় মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছে। দু’দিন আগে ভাইটাও মারা

sheikh hasina

sheikh hasina

গেলো। ফালুর সাথেও ইদানিং সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ওই দিকে পি আই এস আই’র শর্ত অনুযায়ী ৭২ এর সংবিধান পরিবরতন/পরিবর্ধন করে বাংলাদেশকে ইসলামিক রেপাবলিক অফ বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ব্যর্থ প্রয়াসও এখন কার্যকর হবার আর কোনই সম্ভাবনা রইলো না। তাঁর উপর হাটুতে বড় ছেলে তারেকের খাওয়া গুলি বলতে গেলে বেচারাকে পঙ্গুই করে দিয়েছে। প্রেসার তো আছেই তাঁর উপর স্কীন এলারজী, কতো কষ্টে আছে বেজি ঘসেটি বেগম ফালুদা জিয়া? বেচারা চিল্লাতে চিল্লাতে গলা ফাটিয়ে এখন চুপসে গেছেন। আর গলাবাজি চলেনা। দলের ছেলেগুলোও কেমন যেনো বেয়াদপ প্রকৃতির হয়ে গেছে। এইতো সেদিন জন্মভূমি ফেনিতে কি ন্যাক্ক্যারজনক ঘটনাটাইনা ঘটলো। দলীয় কোন্দল বেচারার নিজের সীটটাও বোধ করি আর রাখা সম্ভব হবেনা। কারন ওখানে আবার বাঘা বাঙ্গালী জয়নাল হাজারীকে আগামীতে আওয়ামী লীগ থেকে টিকেট দেবার একটা আভাসও ইদানিং সারা দেশ থেকে ভেসে আসছে। এবারে সেই ১২তম স্বামী জিয়ার দেশের বাড়ী বগুড়ার সীটটাই একমাত্র ভরসা। বাঙ্গালী আসলে বোকা, তারা ঘসেটি বেগমের ফিন ফিওনে শাড়ীর ফাকে ফাকে এখন আর মাংসপিণ্ড বা নাভি দেখে নেত্রীদের ভালোবাসেনা। ভালোবাসে দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং উন্নয়ন দেখে। দেশের মানুষগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছে সত্যিকারের দেশের উন্নয়ন কোন সরকারের আমলে হয়? বেচারার দলের সবই লুটপাট করে সেই ডঃ ফখরুদ্দীনের সময়কাল থেকেই জেলের বদ্ধ সেলে আর পালিয়ে দিন কাটাচ্ছে। বেজি ফালুদা জিয়া বুঝলেন অনেক দেরী করে “চির সত্যকে কখনোই মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায়না”।


Leave a comment

HUJI wants to Kill Hasina

It was 5.23 pm on 21st august 2004 when Awami League chief Sheikh Hasina was wrapping up a rally protesting Sylhet blasts. A wave of grenade attacks on her left at least 16 people killed and left around 200 persons critically injured including top Awami League leaders Abdur Razzak, Amir Hossain Amu, Suranjit Sengupta, Ivy Rahman and Kazi Zafarullah.
The party secretary on Women affairs Ivy Rahman died in the Hospital later in the day. The unknown assailants fired seven bullets at the bulletproof SUV that Hasina boarded immediately after the blast.
The unusually poor deployment of police at the rally and the absence of forces on nearby building rooftops are a remarkable deviation from the usual practice.
Motaher Hossain, general secretary of AL Krishak League said some people on the roof of Ramna hotel and adjacent building were throwing bombs. At least 13 grenades exploded one after another, and also who were present on the spot told a white Microbus carried of some injured person who were among the assailant and were wounded by their own bomb.
Blame game started at the very moment Hasina spoke out loud about government’s conspiracy to kill the remaining member of Bangabandhu Sheikh Mujiber Rahman’s remaining family members, BNP leaders hold back and Abdul Mannan Bhuiyan commented that they have blamed the government out of emotion. But soon BNP leaders changed their tone and started to blame AL for attacking their own rally, they argued AL had done it to destabilize the country and discredit the government only to grab the power.
Fiction and conspiracy theories were put forward by various columnists in the media. Pro Awami columnists blamed the fundamentalist forces and the right wing coalition government for this attack while pro BNP columnists blamed AL and pointed finger towards the country’s biggest neighbor India.
However most columnists inclined towards Awami league and left parties and leaders and activists of these parties discovered a pattern in the bomb blasts. In most cases secular forces and those who believe in culture, tradition and democratic values had been the target. The same group was behind the attack on Hasina’s rally.
Those pro BNP columnists pick up the same incident and argued Hasina was not the target of those assailants, if she were their target then why none of those grenades fall on the truck and also wrote thousand pages about AL’s possible motive behind this?
Some suspected it as a plot by international Muslim extremist groups; some pointed towards the association of ISI (Inter Services Intelligence); while Jamaat leader Matiur Rahman Nizami believes it is the work of “well known enemies of Islam” who masterminded, through various covert organizations, to carry out such brutal murders.
It became increasingly hard to dig out the truth from these fictions. With conspiracy theories you can use any piece of evidence to either prove or disprove your opinion and you can pick up any particular incident to strengthen your position. Truth has many faces but with conspiracy theory all you can achieve is a thousand shade of the truth and all these are equally probable and could be equally false.
In this present regime we have finally a charge sheet that clearly indicates Awami Leagues position is correct in this issue, RAB and other government intelligence agency finally concluded that Islamic militants are behind this attack and also a small fraction of BNP activists patronized this attack.
But is it the whole truth or only a facade? Lets look at the proceedings of the investigations.
To investigate 21st August 2004 bomb blast then BNP government first employed metropolitan police’s detective branch to investigate this incident, then this case was handed over to the criminal investigation department of Bangladesh Police. Five investigating officer under 3 officers in charge investigated this incident for over 4 years and they had submitted two charge sheet contradicting each other.
What is the progress in this case? When ever you ask this question to a law enforcement officer, a certain reply will be that “we are still investigating this matter. We had some lead but for the sake of this on going investigation we can not tell you anything.” Even after submitting charge sheet against 22 person in June 11, 2008 and acquitting all other person found guilty (on the first charge sheet presented by the CID), still the investigation has not been closed. So far we have 2 persons who claimed that they had actively participated in this failed assassination. On 26th June, 2005 Joj Miah from Noakhali confessed to police that for 5000 taka he carried out this attack under the order of Subrata Bain, a top terrorist. Subrata Bain and his group had close ties with some notorious AL leaders and they fled to India after alliance government took over the state in October 2001. He confessed to a magistrate that he had never seen any grenade before but Subrata Bain, Joy, Molla Masud ordered him to participate in this assassination. ASP of Police [CID] Abdur Rashid was the investigation officer then.
But the government were not satisfied with this finding so led by Munsi Atikur Rahman the investigation continued. The investigation found a paved path established by the coalition government.
So far we have two investigation reports, one of them was by Justice Jaynul Abedin, chairman of the one man investigation committee formed by the government to investigate 21st august grenade attack on Awami leagues rally. Awami League has rejected this report claiming it lacks neutrality. And another one was submitted by the Supreme Court Bar Association. According to Moudud Ahmed, who was Law minister at that time, claimed that this inquiry committee is illegal.
Jaynul Abedin’s investigation report:
Justice Jaynul Abedin had submitted his 162 pages manuscript of coalition governments collective story on 2nd October 2004. He was the member and chairman of one man inquiry committee formed by the government to investigate the grenade attack on Awami League rally on 21st august. On the eve of this submission those authorities in concern had invited journalist to give some insight of the report.
After scrutiny, critical and painstaking analysis, Jaynul Abedin did omit the possibility that coalition government and his ally, some extremist religious group and a part of Awami League was behind this heinous attack on Awami League activists.
But he did claim with certainty that a foreign intelligence agency actively participated in this event. They trained those assailants and equipped them with necessary ammunitions. He described this event on that informal press conference, “this incident is a naked attack on the independence and sovereignty of the country.”
Because Jaynul Abedin was a BNP activist in the past, Awami League questioned the neutrality of the investigation committee. Even though 123 people given their statement to this committee but that does not include Sheikh Hasina, who was the prime target of this massacre. Sheikh Hasina rejected the call for her statement.
In that one and half hour informal briefing on the report prior to its submission Jaynul concluded “the commission may not have received cooperation from all, which may have somewhat hindered the investigation, but the inquiry is in no way incomplete.”
Like any other investigation report submitted by any government formed investigation committee it also embraced the fate to remain unpublished till-to-date.
The Supreme Court Bar Association (SCBA) inquiry committee report:
On 22nd august, 2004, immediately after the grenade attack, The Supreme Court Bar Association formed an inquiry committee. Barrister Kamal Hossain was elected as the chairman of that committee and the other members of this committee were Rokonuddin Mahmud, Abdul Malek, Amir-ul-Islam, M Zahir and Muhammad Ayenuddin.
While Hasina wrapped up the rally, at that very moment a grenade went off loud and it was followed by at least 10 such explosions. Awami League leaders formed a human shield to cover Hasina from the splinter, they were injured in this process and soon after they escorted Hasina to her bullet proof SUV and Hasina left for Sudha Sadan, while on the move that SUV was attacked by bullets. Witnesses on their statement confirmed the SCBA inquiry committee that they had not seen any member of the law enforcing agency in action there.

After inspecting the place of occurrence on 27th august 2004 they went to Sudha Sadan, where Hasina assured the committee her full cooperation to find out the truth. Hasina’s security personal and her driver gave their statement to this committee and this committee also inspected the SUV.

Driver on his statement told the committee that he drove towards the east, then took a left turn and then he drove towards Sudha Sadan through zero point. But police officers deployed at the rally on 21st August on their statement said to inquiry committee, SUV carrying Sheikh Hasina away from that place drove westward, took a right turn, and then went to Sudha Sadan through zero point.

On 16th, 17th, 18th September the committee watched the video tape recorded by ATN, Channel I and NTV. On ATN video tape they saw a young man purposefully looking towards the multi storied Dhaka City Bhaban. Apart from this, on Channel I and NTV footage some suspicious incidents were seen by the committee members.

The inquiry committee sent two letters to Prime Minister Khaleda Zia, requesting her to extend cooperation for the inquiry and to direct the law enforcing agency to cooperate with them in interest of its work.

A letter was sent from the inquiry committee to IGP Shahudul Huq on 29 August 2004 requesting him to direct the police authorities to inform the inquiry committee of the number of persons who were deployed for maintaining the law and order in the public meeting on 21st August 2004 with the descriptions of their duties and locations.

After 3 weeks another letter was sent to him, requesting for his interview. The inquiry committee requested state minister of home affairs, but all of them turned down their request further more the law minister Moudud Ahmed on several occasion said that this inquiry committee had no legal basis and any report of any such illegal committee should not be recognized.

But the government did inform the SCBA inquiry committee that they had done every thing that is possible for them and sent a copy of the statement made by the State Minister for Home Affairs in the Parliament. In that speech the State Minister mentioned that the police made all out efforts to identify the culprits immediately after the incident and within 24 hours a Judicial Inquiry Commission was constituted with a judge of the Supreme Court as the sole Member. He also mentioned that the Government also arranged for an “international” inquiry into the 21st August incident side by side with Bangladesh police investigation and in response to the Government invitation 3 (three) teams from Interpol visited Bangladesh and helped the inquiry. Besides this, the government had also taken cooperation of FBI of USA.

The SCBA inquiry committee made repeated requests at the highest levels of the government for obtaining copies of reports of earlier bomb-blasts, the report of the ‘judicial inquiry’ into the 21 August, 2004 constituted by the Government, and other documents and information, but such requests have till-to-date were turned down.

The Supreme Court Bar Association (SCBA) inquiry committee concluded it was a pre-planned attack, carried out on the basis of a carefully prepared plan, targeting Sheikh Hasina and other leaders and persons attending the rally. The firing of the bullets and grenades on the vehicle by which she was leaving the place of occurrence, confirms that she was the target.

The committee urged government to publish all reports of investigation within one month or else public may lead to believe attempt on Sheikh Hasina’s life was to some extent was patronized by this government.

The alleged HUJI rage against Awami League:

Some columnists claimed in the media that the AL government, after assuming power in 1996 barred Islamic scholars from issuing fatwa’s through a High Court order. The government also came on strong against the right wing protesters and arrested hundreds across the country. This had angered HUJI.

Mufti Abdul Hannan, the operative commander of the banned Harkatul Jihad-al-Islami revealed on 19th November 2006.

“I masterminded all grenade attacks across the country excepting the August 21, 2004 gruesome attack on the AL rally, and three people financed the outfit for carrying out the attacks”

Hannan gave another detailed statement on 1st November 2007:

“Kajol was given the responsibility to collect funds and grenades for the attack. They decided that 12 persons would carry out the attack and Kajol and Abu Jandal would select the commanders of the operation. It was decided that Kajol and Jandal brief the attackers about their positions and Jandal would throw the first grenade after getting instruction from Sayeed. The others would throw their grenades at around the same time. Hannan said the attackers targeted the truck and left the spot individually after the operation.”

However question remains as why HUJI chose to attack Hasina after all those years and during the period when there was a row of political killings of Awami League leaders (Kibria, Ahsan Master etc.) were happening. HUJI members were used but who masterminded the attack?

The BNP connection:

In January 2008, former deputy minister for information of the BNP government Abdus Salam Pintu was arrested for his involvement with the grenade attacks on Awami League rally on August 21 in 2004. He was arrested on the basis of confessional statement made earlier by detained Mufti Hannan who claimed that the attack on the AL rally was planned at the official residence of the former Deputy Minister. Hannan said that Pintu was present at the meeting and later supplied the grenades.

He made startling disclosure to interrogators about the involvement of former State Minister of Home Lutfuzzaman Babar and ‘Hawa Bhaban’ in the grenade attacks. From The New Nation:

“The CID officer said they were certain after the arrest of Mufti Hannan and Pintu that the attack on the AL rally had been aided and abetted by Lutfuzzaman Babar and the Hawa Bhaban.

“To hide the truth, former investigation officer Ruhul Amin, a CID officer, had gone to Pintu’s house several times,” he said, and added, “former State Minister of Home Babar was involved in the entire process and Pintu would regularly inquire with him about the progress.”

Pintu’s counsel Advocate Sanaullah Mia, however, told : “He was implicated only because his cousin Maulana Tajul Islam, a militant leader and an accused in the grenade attack case, had visited his house when Pintu was a Minister,”

HUJI is the culprit but who used them and why?

On June 11, 2008 charges were finally made against 22 persons including top Harkat-ul-Jihad (Huji) leader Mufti Abdul Hannan and BNP leader and former deputy minister Abdus Salam Pintu. Newspaper reports say:

“CID Chief Additional Inspector General Jabed Patwari said HUJI top leaders planned and carried out the attacks to kill Hasina as a few arrested attackers said in their confessional statements that Hasina would harm Islam if she was alive and came to power again.

BNP leader Pintu is not involved with Huji but he has been charged since the attackers had held two meetings at his residence to take decision about the attack.”

But the question remains whether HUJI tried to kill Hasina on their own or it was a political assassination plot linked by BNP to take out the opposition. Like every other political massacre the 21st August grenade attack on Hasina has no clear motive whatsoever and after 4 years of investigation we are not certain whether those who were behind this ghastly attack have finally been exposed. Will we be able to know the trut

Rasel Pervez, prominent blogger in Bangla blog sphere who is famous for his political analysis. Mr, Rasel Pervez completed his MS on Physics from the US and awaiting PHD.

One Response to HUJI tried to kill Sheikh Hasina: Conspiracy Theory Or Truth?

Khondkar Abdus Saleque on November 20, 2008 at 6:45 pm

Why always Sheikh Hasina an progressive force like Kazi Aref,Udichi,Ramna Batomul,Progressive Journalists of Khulna( Humayun Kabir,an Others),Poet Shasur Rahman ,Dr Humayun Azad and others were target of terrorists?Why no one of so called nationalist or self styled Islamic force came under attacks of terrorists? What does this mean? These terrorists act as agents of identified beneficiaries to make the politics clean of progressive patriotic democratic forces to serve the interest of the so called nationalists.Bangla Bhai wanted to talk with Journalists before execution to tell the truth but was not allowed.If he could talk he woul definitely have exposed many involve in making him big.In Bangladesh politics of killings will never be over until all killings are fairly an openly tried.
The trial of 21 August grenade attack must be held properlyto punish the real criminals, sponsors and mastermind.Such organised crime can not happen in the heart of the capital city in the broa day light without knowledge and active support of the party in power.People say Ziaur Rahman ha moral support to August 15,1975 mid night massacare .No one shoul be surprised if Babar, Hawa Bhaban and intelligence agencies were actively behind August 21 carnage on Hasina meeting.History will reveal someday.


Leave a comment

Sheikh Hasina has urged new generations

Prime minister Sheikh Hasina has urged new generations to excel in the use of information and communication technology to help build Bangladesh free of poverty and unemployment.
“Our aim is to get our new generations used to tapping technology,” Sheikh Hasina said, inaugurating a convention of ICT-related experts of Asia, ‘E-Asia 2011’ at Bangabandhu International Convention Centre in Dhaka on Thursday.

She added that if the young generation receives proper education on information technology, it will play a role in creating jobs at home and abroad.

Hasina said ‘Digital Bangladesh’ is part of the electoral manifesto of her Awami League party, which aims to fully digitalise the nation by 2021 through application of information and communication technology. “We are working tirelessly to ensure technologies for all.”

She said that as a step towards digitalising Bangladesh, her government has made mobile phones available and established 1,600 multimedia classrooms and almost 3,000 IT labs across the country.

“We have digitalised the primary and secondary textbooks and are planning to establish multimedia classrooms in another 20,000 educational institutions.” The prime minister referred to the establishment of mobile IT labs in the remote areas and introduction of solar energy in areas without electricity. “The government has taken initiatives towards introducing 3G mobile services.”

Citing digital services like e-information centres in upazilas and mobile banking, she said, “”I believe that we will not have to wait until 2021. We can make our Bangladesh digital before that.”
State minister for ICT Yeafesh Osman said, “If only we work together under the leadership of the daughter of the Father of the Nation, it will be possible for us to build a digital Bangladesh.
Advisor to the state minister for ICT, Sajeeb Ahmed Wazed said, “Like India, we can transform Bangladesh into an information technology hub. We believe we can do much in a short time.”
“Every ministry of the government will be brought under E-governance,” added Sajeeb, the son of Hasina.
“There will be no shortage of electricity in Bangladesh within 2013,” he added.

Indian research organisation Centre for Development and Media Studies (CSDMS) is the key organizer of the event. Bangladesh Computer Council and the Ministry for Science and Information and Communication Technology are sponsoring the event.

It has been possible to host the fair in Bangladesh thanks to the leadership of Sheikh Hasina, the CSDMS representative M P Narayan said.

The slogan for this year’s convention is ‘Realizing digital nation’.

The state minister for ICT had announced on Nov 30 that 30 seminars and workshops would be held during the event. Malaysia, Sri Lanka, Japan, Thailand and Holland’s pavilions would also be set up, besides Bangladeshi pavilions, at the venue as part of the exhibition.

The best IT contributions from Asia will be awarded on the second day of the event, it was announced.
Besides the convention, an IT fair will run from 10am to 8pm every day through to Saturday. The entry fee is Tk 10 but students can get in for free, the organizers’ said.

The first E- Asia convention was held in Bangkok in 2006, twice in Malaysia and once in Sri Lanka. The event was scheduled to be held last year in the Philippines but was postponed due to political uncertainty.


2 Comments

The Formation of an Independent Bangladesh

The Formation of an Independent Bangladesh

What is now called Bangladesh is part of the historic region of Bengal, the northeast portion of the Indian subcontinent. Bangladesh consists primarily of East Bengal (West Bengal is part of India and its people are primarily Hindu) plus the Sylhet district of the Indian state of Assam.

West Pakistan and East Pakistan were united by religion (Islam), but their peoples were separated by culture, physical features, and 1,000 miles of Indian Territory.

The Formation of an Independent Bangladesh

Tension between East and West Pakistan existed from the outset because of their vast geographic, economic, and cultural differences. East Pakistan’s Awami League, a political party founded by the Bengali nationalist Sheik Mujibur Rahman in 1949, sought independence from West Pakistan. Although 56% of the population resided in East Pakistan, the West held the lion’s share of political and economic power. In 1970, East Pakistanis secured a majority of the seats in the national assembly. President Yahya Khan postponed the opening of the national assembly in an attempt to circumvent East Pakistan’s demand for greater autonomy. As a consequence, East Pakistan seceded and the independent state of Bangladesh, or Bengali nation, was proclaimed on March 26, 1971. Civil war broke out, and with the help of Indian troops in the last few weeks of the war, East Pakistan defeated West Pakistan on Dec. 16, 1971. An estimated one million Bengalis were killed in the fighting or later slaughtered. Ten million more took refuge in India. In Feb. 1974, Pakistan agreed to recognize the independent state of Bangladesh.

Founding president Sheikh Mujibur Rahman was assassinated in 1975, as was the next president, Zia ur-Rahman. On March 24, 1982, Gen. Hossain Mohammad Ershad, army chief of staff, took control in a bloodless coup but was forced to resign on Dec. 6, 1990, amid violent protests and numerous allegations of corruption. A succession of prime ministers governed in the 1990s, including Khaleda Zia, wife of the assassinated president Zia ur-Rahman, and Sheikh Hasina Wazed, the daughter of Sheik Mujibur.

Prime Minister Sheikh Hasina completed her five-year term as prime minister in July 2000—the first leader to do so since the country gained independence from Pakistan in 1974. In Oct. 2001 elections, Khaleda Zia again won the prime ministership and finally after seven years Sk. Hasina Wajed won the Prime Ministership once again in December, 2008.

West Pakistan and East Pakistan were united by religion (Islam), but their peoples were separated by culture, physical features, and 1,000 miles of Indian Territory. East Pakistan’s Awami League, a political party founded by the Bengali nationalist Sheik Mujibur Rahman in 1949, sought independence from West Pakistan. Although 56% of the population resided in East Pakistan, the West held the lion’s share of political and economic power. In 1970, East Pakistanis secured a majority of the seats in the national assembly. President Yahya Khan postponed the opening of the national assembly in an attempt to circumvent East Pakistan’s demand for greater autonomy. As a consequence, East Pakistan seceded and the independent state of Bangladesh, or Bengali nation, was proclaimed on March 26, 1971.  An estimated 3 million Bengalis were killed in the fighting or later slaughtered & ten thousands of women were raped by the Pakistani Army & their corroborators. Ten million more took refuge in India. In Feb. 1974, Pakistan agreed to recognize the independent state of Bangladesh.

 


Leave a comment

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সকল বির্তকের উর্ধ্বে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সকল বির্তকের উর্ধ্বে ।আসুন এই অবিনাশী চেতনায় সকলে ঐক্যবদ্ধ হই, রুখে দাড়াই সকল অপকর্ম, দুর্নীতি, কুটকৌশল, কুসংস্কার, হীন ও দৈন্যতার বিরুদ্ধে, ঐক্যবদ্ধভাবে গড়ে তুলি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। যেখানে থাকবেনা দারিদ্র্যতার হিংস্র থাবা, থাকবে না মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, হিংসা বিদ্বেষ,ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি, পরনিন্দা, পরচর্চার হীন মনোবৃত্তি । থাকবে না ক্ষমতা দখলের জন্যে সেনাবাহিনীর কামানের হুংকার, থাকবে না অস্ত্রের ঝনঝনানি, থাকবে না ক্ষমতার লোভ লালসা, থাকবে না স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রভূর হাতে সমর্পণের হীন চক্রান্ত। থাকবে না ধর্মের নামে জঙ্গিবাদের অবাধ লীলা খেলা।